abp

পুস্তক পরিচয়
২১ মে, ২০১৬

বাবু-বাঙালির আত্মানুসন্ধান

শুভরঞ্জন দাশগুপ্ত

কাটা জিভের বৃত্তান্ত/ চন্দনা ডাইনি আর জাদুবাতি,
রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়। চর্চাপদ, ৫০০.০০

kata_jiver_btittantoলেখকের কাছে আমি মনে মনে একটি প্রশ্ন পেশ করেছিলাম। প্রশ্নটি হল: ‘‘আপনার এই অসামান্য রচনাটিকে আপনি সাহিত্যের কোন সুনির্দিষ্ট বিভাগে বা বৃত্তে স্থান দেবেন— চিরাচরিত প্রচলিত উপন্যাস, প্রথা-ভাঙা উপাখ্যান, কোরিক আখ্যান, স্মৃতি-বিস্মৃতির রোমন্থন, নৃতত্ত্ব-নির্ভর সৃজন না দীর্ঘায়িত গদ্যকবিতা? বলাই বাহুল্য, আমি কোনও উত্তর পাইনি। কিন্তু উত্তর মেলেনি বলেই আমি লেখকের সঙ্গে চটকদারি লেবেল পোস্টমডার্ন বা উত্তর-আধুনিক জুড়তে প্রস্তুত নই।

এক আয়তনিক সময়ের পরম্পরাকে অগ্রাহ্য করলেই এবং সৃজনে ম্যাজিক রিয়ালিজম বা মায়াবাস্তবের প্রবেশ ঘটালেই কেউ উত্তর-আধুনিক হয়ে ওঠেন না। সত্যি যদি লেবেল লটকানো এত সহজই হত, তা হলে সবচেয়ে আগে আমরা মার্কেজ আর গুন্টার গ্রাসকে উত্তর-আধুনিক বলতাম। কেন তাঁরা উত্তর-আধুনিক নন তা গুন্টার গ্রাসই চাঁছাছোলা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন: ‘‘শুধুমাত্র গদ্যশৈলী ও নির্মাণশৈলীতে নবত্ব থাকলেই লেখক উত্তর-আধুনিক হয় না। উত্তর-আধুনিক হওয়া মানেই একটি বিশেষ বিশ্বদৃষ্টির সমর্থক হয়ে যাওয়া, যার সঙ্গে সাম্যবাদের যোগ অত্যল্প। আমি মনেপ্রাণে সাম্যবাদী, তাই আমি উত্তর-আধুনিক নই।’’

যাঁরাই রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃজনের সঙ্গে অল্পবিস্তর পরিচিত, শৈশব থেকে বাংলার মুখ, তারপর সত্তরের জার্নাল থেকে আলোচ্য বই, তাঁরাই সন্দেহাতীত ভাবে জানেন যে, লেখক মার্কসীয় বীক্ষার অনুসারী, তিনি মার্কসবাদী, অতএব তাঁকে মার্কসবাদ-বিরোধী উত্তর-আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করা ভ্রান্ত সমীকরণ। কখনও সচকিত স্বরে, কখনও আভাসে-ইঙ্গিতে তাঁর এই হৃদয়ী আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে— একটি অন্তঃসলিল ধারার মতো মার্কসীয় বিশ্বাস বয়ে চলেছে তাঁর লেখাগুলিতে।

এমনকী, আলোচ্য বইটি যে চিঠির অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে শেষ হয়েছে, সেখানেও এই বিশ্বাস প্রতিভাত। পত্রলেখক সাম্যবাদের প্রভাবেই একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন: ‘‘কিন্তু কাঙাল যারা, যাহারা দীনদরিদ্র, যাহারা জাতের চাপে পিষ্ট তাহাদের কথা, তাহাদের মুক্তির কথা বিশেষ শুনিতে পাই না কেন?’’ (পৃ: ৩৭৩) সুস্পষ্ট এই প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নের মাধ্যমেই রচনাটির সমাপ্তি প্রমাণ করে যে, লেখক উত্তর-আধুনিকতার প্রতিনিধি একেবারেই নন। প্রতিনিধি হবেনই বা কোন দুঃখে?

শুরুতে উত্থাপিত প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে আমিও কিছুটা বিপাকে পড়ি। মারিও ভার্গাস হোসা ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাঘব এঁদের প্রভাব আত্মস্থ করেই এই উপাখ্যানে এক চমকপ্রদ নির্মাণশৈলী গড়ে তুলেছেন, যেখানে কালপরম্পরাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এমন এক গদ্যশৈলী উপহার দিয়েছেন, যা সহজ-স্বাভাবিক বিন্যাসে যুক্তিময় মননশীল ভাষা আর আদ্যন্ত লিরিকধর্মী ভাষাকে একই সঙ্গে ধারণ করতে সক্ষম। মননশীল যুক্তিতর্কের ভাষাটিতেও কবিতার স্পন্দন প্রায়শ শোনা যায়। তাই আমি বলব যে, দীর্ঘায়িত গদ্যকবিতার বৃত্তেই রচনাটির স্থান নির্ধারিত।

প্রথমেই চোখে পড়ে অনবদ্য কিছু তুলনা বা উপমা, যেমন পৃষ্ঠা ১৭-তে, ‘‘গলির গলি, তস্য গলিতে তুলোর আঁশের মতো নীরবতা ছিল।’’ পৃষ্ঠা ২৪-এ আমরা পাঠ করি ‘‘দুর্ভিক্ষের বাটি হাতে বিয়াল্লিশের বাংলার অর্ধনগ্ন হাড় জিরজিরে মা, তার হাড়ে লেপটে থাকা মিউরালের মতো শিশুটির দু’চোখ অনেক দিনের জলের শুকনো, ক্ষতের মতো দাগ…’’ এ হেন উপমা স্তম্ভিত করে এবং স্মৃতিতে বয়ে আনে জীবনানন্দর উপমার সৃষ্টি।

এই মুহূর্তের বিচ্ছুরণই দীর্ঘ হয় সেই অংশগুলিতে, যেখানে ম্যাজিক রিয়ালিজম বা মায়াবাস্তব প্রবেশ করে স্বাভাবিক ছন্দে। কল্পনা আর বাস্তব এই পর্বগুলিতে একত্র হয়ে গড়ে তোলে এক অনন্য সৃজনশৈলী। যেমন পৃষ্ঠা ৪৩-এ, ‘‘বেহালাবাদক ঠাকুরদা মাদ্রিদ-বার্সিলোনা এবং আর আর শহরে মাত করার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরী, অভিজাত মহিলারা, তাদের যুবতী মেয়েরা ‘রোগোবার্তো রোগোবার্তো’ ধ্বনিতে এমন ঝড় তুলত, তাকে একবার স্পর্শ করার জন্য তাদের আঙুলগুলি ছুটতে শুরু করত, তাদের ঠোঁট গুচ্ছ গুচ্ছ প্রজাপতি  হয়ে এমন শিসধ্বনিতে উ়ড়ে আসত, যে শেষ পর্যন্ত বেহালার যাদুকরের মুখটি হয়ে উঠত প্রজাপতির অর্ধবৃত্তাকার এক বিমূর্ত চিত্রশালা।’’

লিরিকধর্মী গদ্য তার চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে এক-একটি নির্দিষ্ট পরিচ্ছেদে, যেখানে কবিতার স্তবক আর গদ্যের অনুচ্ছেদ পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে মিলে গিয়ে নির্মাণ করে এক স্বতন্ত্র ভাষাশৈলী, যেখানে গদ্য ও কবিতার ভিতর আর কোনও সীমারেখাই থাকে না। এই শ্রেণির একটি পরিচ্ছেদ ‘কুটীল কুন্তলে কিবা বান্ধিয়াছে বেণী।’

ঠিক এই প্রসঙ্গে অন্য দু’টি উপন্যাসের কথাও অনিবার্য ভাবে স্মরণে আসে। এক, আখতারুজ্জামানের খোয়াবনামা আর দুই গুন্টার গ্রাসের দ্য ফ্লাউন্ডার, এই দুটি উপন্যাসেও মায়াবাস্তবের চাপে গদ্য উন্নীত হয় কবিতার স্তরে আর গদ্যকবিতা করধৃত করে কাব্যময়তাকে। সর্বোপরি, এই তিনটি উপন্যাসেই অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ তাদের পৃথক পৃথক প্রাচীরগুলিকে ভেঙে সৃষ্টি করে এক নতুন সময়চেতনা। সমালোচক গেয়র্গ স্টাইনার এই বিশিষ্ট ভাষা ও ভাষার গঠনকেই ‘লিরিকাল ফিলসফি’ বলেছেন, আর এর সর্বোৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত তিনি দেখেছেন মার্টিন হাইডেগারের গদ্যে, যেখানে অনুপ্রাণিত দার্শনিক হ্যোল্ডারলিন-এর কবিতা বিশ্লেষণ করেছেন তন্ময় ভাষায়।

এই মহাকাব্যিক উপাখ্যানের বিষয়বস্তু কী? নানান চরিত্র ও নানান ঘটনার সমাবেশ রচনা করে লেখক আমাদের ঠিক কী উপহার দিতে চেয়েছেন? সহজ ভাষায় বললে, তিনি ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর বাবু-বাঙালির আত্মানুসন্ধান ও আত্মচরিত্র লিপিবদ্ধ করেছেন মরমী কিন্তু নৈর্ব্যক্তিক ভাষায়। কখনও এই বাঙালি আপসকামী, বিদেশি শাসকের কাছে যাওয়ার জন্য আকুল, আবার কখনও সে তেজোদীপ্ত বিদ্রোহী। সংশ্লিষ্ট গল্পগুলিকে সূত্রবদ্ধ করেছেন একটি কোরিক দম্পতি—  বাঙালি স্বাধীন ও তার স্পেনীয় দয়িতা রোজারিও।

অতীতমুখী রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায় সুদূরের নিমাই সন্ন্যাসীকেও আমাদের কাছে এনেছেন এবং তারপর এসেছে একের পর এক— মিউটিনি, বাংলার নবযুগ, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির ভূমিকা, দেশভাগ ও স্বাধীনতা এবং নকশালবাড়ির বৃত্তান্ত। ঘটনা ও স্মৃতির এই সুদীর্ঘ যাত্রার অন্তঃসার ব্যক্ত করতে গিয়ে লেখক নিজেই বলেছেন ‘‘খণ্ড খণ্ড অজস্র গল্প, গল্পের টুকরো পরস্পর জুড়ে রচনা করে এক অন্তহীন কথকতা যা অন্তর্লীনও বটে।’’

এই ক্রমবর্ধমান, নিবিড় আখ্যানের পরিপূর্ণ স্বাদ আমরা পাই একাধিক পরিচ্ছেদে, যেগুলির ভিতর বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হল ‘বিবিজান চলে যান লবেজান করে’ (পৃ: ২২৪-২৪৩) এবং ‘কান্নাকাটির কনসার্ট’ (পৃ: ৩৪২-৩৫৮)। পৃষ্ঠা ৩৪৫-এ তিনি বাবু-বাঙালির জাতীয় চরিত্র বর্ণনা করেছেন এই ভাষায়— ‘‘আমোদ গেড়ে জাত: আত্মঘাতী জাতি/ কাঁকড়াবৃত্তিতে নিবেদিত: পরশ্রীকাতর জাত/ উনিশ শতকের বাঙালি: (গুটিকয়) ব্যতিক্রম/ মুসলমান, গরিবগুর্বো চাষামজুর বাদ: বাঙালি মানে স্রেফ ভদ্রলোক বাবু-বাঙালিই বাঙালি/ অলস কর্মবিমুখ হিংসুটে নিন্দুক ফিচেল।’’ স্মৃতি-বিস্মৃতির প্রবেশ ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। ভারতচন্দ্রের কাব্য থেকে কবি কিংকরের বর্ণনা তাদের স্থান করে নিয়েছে অনায়াসে।

এই স্মৃতিভিত্তিক ইতিহাসে সব থেকে মরমী পরিচ্ছেদ হল ‘সেই ক্ষত ১৯৪৭’। প্রফুল্ল চক্রবর্তী, হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের দেশভাগ সম্পর্কিত লেখালেখির পরও এই রচনাটি গুরুত্ব অনস্বীকার্য, কারণ এখানে সুতীব্র মননশীল গদ্য বিরাট ট্র্যাজেডিকে মূর্ত করেছে সহজ-গভীর ভাষায়। যেমন, ১৫৯  পৃষ্ঠায় রাঘব লিখেছেন, ‘‘দেশভাগ, দাঙ্গা বাঙালির জীবনে মস্ত বড়ো  ক্ষত— মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত, উদ্বাস্তু, নমশূদ্র, চাঁড়াল সব্বাইকে রাতারাতি, স্রেফ বেঁচে থাকার জন্য বহু সংস্কার, সংকোচ মরা খোলসের মতো ত্যাগ করতে হয়েছে… নমশূদ্ররা মাটির পোকা, তারা যেন গাছগাছালি, যেখানে জন্মাবে, যেখানে পুঁতবে সেইখানেই তারা খুঁটিতে বাঁধা গোরু-ছাগল হয়ে থাকবে, সেইখানেই শেষ নিশ্বাস ফেলবে।’’ এই গদ্যশৈলী চাবুকের আঘাতের মতো এবং এক মুহূর্তে এই গদ্য আমাদের নিয়ে যায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কাছে, যিনি দেশভাগকে বাঙালির জীবনে সর্বাধিক অর্থহীন ট্র্যাজেডি বলে রায় দিয়েছিলেন।

ইলিয়াস ও রাঘব তুলনীয় তীব্র ও কাব্যিক ভাষায় এই বিরাট অভিশাপকে বর্ণনা করেছেন। বইটির ১৭৮ পৃষ্ঠায় বিক্ষত লিরিকের মাধ্যমেই এই অভিশাপ জীবন্ত হয়ে উঠেছে: ‘‘কুপার্স ক্যাম্পে অনেকের চোখের সামনে সংগম করা, আমাশয়-কলেরায় শিশুমৃত্যু, কঠোর শ্রম, এক পেট খিদের বাইরেও আনমনা, শিথিল, শান্ত, নদীর বাতাসে জেগে ওঠা রোঁয়া—  যা জৈবিকই, এবং এ কোনও অতীতের জন্য হাহাকার নয়, এ এমন এক অনুভব, অভিজ্ঞতা  যা হয়তো পুষ্পস্তবকের মতো, তথ্যের ভাণ্ডারের মতো কারও হাতে তুলে দেওয়া যায় না; সে থাকে চাউনিতে, শ্বাসে, মুদ্রায় ও মুদ্রাদোষে।’’ এই নাড়ি-মোচড়ানো বিবরণীর পর আর কী-ই বা লেখা যেতে পারে।

বিনীত লেখক প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন যে, তিনি এক দিকে কমলকুমার মজুমদার, সতীনাথ ভাদুড়ি ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-এর কাছে ঋণী; অন্য দিকে লাতিন আমেরিকার একাধিক ঔপন্যাসিক তাঁকে আলোড়িত করেছেন। সত্য হল, এই দ্বিমুখী প্রভাব আত্মস্থ করার পরও তিনি অনুকরণ থেকে অনেক দূরে থেকেছেন। তিনি রয়ে গিয়েছেন স্বতন্ত্র ও স্বরাট। এবং এই অন্তর্নিহিত নিজস্বতাই তাঁর আলোচ্য উপাখ্যানকে দান করেছে স্বাধীন গরিমা।

…Link



13 April, 2016

…Link


Sunday , October 26 , 2014

Shahzadi, Shaikh Chilli and a sea of stories

cpreview

Once upon a time, a king who had seven sons asked the princes to choose their brides by shooting arrows; they would have to marry a girl from the house on which an arrow fell. All the princes got beautiful brides, except the youngest, who accidentally chose a monkey. But he refused to let her go, and loved her, and took care of her, as one would of a beloved pet, calling her “Shahzadi”, and married no one.

When the king wanted to meet all the princes at their palaces, the youngest despaired. But his monkey asked him to go ahead. And lo and behold, the palace was transformed into a place of magical beauty, a feast befitting the gods waited for the king. When it was time for the king to meet the monkey, in her place appeared a beautiful Peri, who had taken the form of a monkey to test the prince’s love. Thence began another trial. The prince burnt the monkey skin that his beloved had cast away to keep her with him forever and she disappeared, crying: “I burn, I burn, I am roasted, I am roasted.”

This story, which seems to have landed straight from the Arabian Nights, and is also a version of a Russian fairy tale in which Princess Vasilisa, the Wise and Clever, is disguised as a frog and marries Ivan, the Tsar’s youngest son, appears as part of Folk Tales of Hindustan attributed to Shaikh Chilli. First serialised in 1907 in Modern Review, a journal edited by Ramananda Chatterjee, then as a book in 1908 and later in 1913 with illustrations by U. Ray & Sons, these stories, collected and rewritten by Shrish Chandra Basu in English for Modern Review, now appear in a new edition published by Charchapada, Calcutta.

It is not known who Shaikh Chilli was. He is like Mullah Naseeruddin, Gopal Bhand and Birbal; a folk figure, the owner of a witty, lively and sometimes sharply ironic voice who may have existed, may not have; who may have been a Sufi saint and a teacher to the Mughal prince Dara Shikoh, or may not have. But the stories do.

They not only show yet again how stories travel, connecting many parts of the world and many centuries, but the existence of a culturally composite India, at least in imagination.

Shaikh Chilli’s tales combine the backdrop and plots of the Arabian Nights with the social and moral atmosphere of Panchatantra, the Jatakas or Vetal Panchavimshati. In The Story of Raja Vikram and the Evil Yogi, Raja Vikramaditya travels to China, in disguise, intending to win over the wise daughter of the king, and sings to her, first raga Dipak, and on another occasion, ragini Bhairavi. If only Indo-China diplomacy was so easy now. In The Story of Prince Mahbub, the eponymous prince rescues his father’s severed head from an underwater world, where, as it drips blood that turns into rubies, it is guarded by 12 most beautiful Peris.

In The Story of the Seven Goldsmiths, a goat rakshasi has her brother, a nobleman-rakshas, bringing her a man every night, and as he sleeps, she sucks his blood. “Sister, art thou happy?” the nobleman asks. “Brother Rakshas, I am happy so long as you keep me so, my hunger is satisfied so long as you give me human blood.” Very vampire-like, but then Richard R. Burton had translated Vetal Panchavimshati as Vikram and the Vampire in 1870. A baital is a “vampire or evil spirit that animates dead bodies”.

Basu’s translation of Shaikh Chilli’s stories is vibrant, robust and accommodating and very entertaining: Urdu, Hindi and Sanskrit words flow into the English syntax naturally. Even if they don’t, his narration somehow retains the flavour of the Indian setting.

His work, of course, needs to be seen in the tradition of the great fairy-tale compilation project, both in English and vernaculars, which was going on in India, encouraged, among other things, by the Grimm Brothers’ compilation. As the afterword in the new edition says: “The first edition of Folk Tales of Hindustan was published in 1908, a year after the appearance of Dakshinaranjan Mitra Majumder’s Thakurmar Jhuli…” The book’s antecedents can be traced to older anthologies of Indian folk tales such as Mary Frere’s Old Deccan Days (1868), Lal Behari Dey’s Folk Tales of Bengal (1883) and Richard C. Temple’s Legends of the Punjab (1883-85).

The Charchapada edition comes with new colourful pictures by Anup Roy, but an additional treat is a selection from the original illustrations by Upendrakishore Ray Chowdhury, appearing at the end.

Shaikh Chilli, as told by Basu, is a must read. For the young and the old.

Link…



21 June, 2014

…Link


abp

 

পুস্তক পরিচয়
২ ফাল্গুন ১৪২০ শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

folk_tales_of_hindustanরামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকায় (১৯০৭) ফোক টেল্স অব হিন্দুস্তান প্রথমে ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিল, বই-আকারে প্রথম সংস্করণ পরের বছর। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি/ বাঙ্গালার রূপকথা-ও বেরিয়েছিল ১৯০৭-এ। ইউরোপীয়দের উৎসাহে এ দেশের লোককথা সংগ্রহ অবশ্য শুরু হয়ে গিয়েছিল উনিশ শতকেই, রেভারেন্ড লালবিহারী দে তাঁর ফোক টেল্স অব বেঙ্গল (১৮৮৩)-এর ভূমিকায় তাঁর সংগ্রহের জন্য রিচার্ড কারনাক টেম্পল-এর অনুপ্রেরণার কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন। ফোক টেল্স অব হিন্দুস্তান-এর ভূমিকায় রামানন্দ দুঃখ করেছিলেন, বিদেশে লোককথা নিয়ে চর্চা রীতিমতো প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেলেও ভারতে লোককথা সংগ্রহের কাজটি বিদেশিদের জন্যই রেখে দেওয়া হয়েছে, ভারতীয়রা তাকে কোনও গুরুত্বই দেয়নি। বিশ শতকে অবশ্য লোককথা সংগ্রহের বিষয়টি আস্তে আস্তে যথেষ্ট গুরুত্ব পেতে থাকে এবং জাতীয়তাবাদী আখ্যানে তার ভূমিকাও তৈরি হয়। এক দিকে লোককাহিনি ‘অবিকৃত’ ভাবে, কোনও রকম সংশোধন ছাড়া লিপিবদ্ধ করার উপর জোর দেওয়া এবং অন্য দিকে ছোটরা পড়বে বলে ‘সামান্য’ পরিবর্তন করা এই দুটি বিষয়ের উল্লেখই রামানন্দের ভূমিকায় নজর কাড়ে, যা পরে ভারতীয় লোককথা সংগ্রহের বিচিত্র ইতিবৃত্তে বহু আলোচিত। আর একটি লক্ষণীয় দিক, গল্পগুলি সুফি সন্ত শেখ চিল্লি-র নামে প্রকাশিত, যদিও আদতে শ্রীশচন্দ্র বসু এগুলি সংকলন করেন। সংকলনটি উৎসর্গ করা হয়েছিল যুক্তপ্রদেশের লেফটেনান্ট-গভর্নর জে এস মেস্টনকে, সেখানে উল্লেখ ছিল লোককথাগুলি সেই অঞ্চলে প্রচলিত। সমসাময়িক আলোচনা থেকেও বুঝতে অসুবিধা হয় না, উত্তর ভারতে বহুপ্রচলিত নানা ফার্সি-উর্দু কিসসা-কাহিনিই এর উৎস।
ফোক টেল্স অব হিন্দুস্তান ১৯১২-য় বাংলায় অনুবাদ করেন রামানন্দ-কন্যা সীতা দেবী ও শান্তা দেবী (হিন্দুস্থানি উপকথা)। সঙ্গে ছিল উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর অনবদ্য চিত্রণ। ১৯১৩-য় ইলাহাবাদের পাণিনি অফিস থেকে প্রকাশিত হল মূল ইংরেজি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ। উপেন্দ্রকিশোরের ছবিগুলি এতেও সংযোজিত হয়। চর্চাপদ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত হল বইটির নতুন শোভন সংস্করণ (ফোক টেল্স অব হিন্দুস্তান, শেখ চিল্লি। ৮৮০.০০), সেখানে গল্পগুলির সঙ্গে নতুন করে অনেক রঙিন ছবি এঁকেছেন অনুপ রায়। শেষে রয়েছে মূল দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা, এবং এই বইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা। উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ৩৫টি ছবির মধ্যে এখানে ছাপা হয়েছে ২৮টি সাদাকালো ছবি।  …Link


abp
পুস্তক পরিচয়
২৫ মাঘ ১৪২০ শনিবার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

লক্ষ্মীর পা

laksmir_paa

 

 

 

 

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলার ব্রত বইয়ে আলপনা প্রথম গ্রন্থবদ্ধ হয়। তরুণ শিল্পী রবি বিশ্বাস লক্ষ্মীপুজোর আলপনা নিয়ে ক্ষেত্রানুসন্ধানে নথিবদ্ধ করেছেন বিপুল তথ্য-চিত্র। তাঁর লক্ষ্মীর পা (চর্চাপদ, ৫০০.০০) বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির চর্চায় নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।  …Link


abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
২৫ মাঘ ১৪২০ শনিবার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়ের আখ্যান কমুনিস আর স্মৃতিলেখ জার্নাল সত্তর একত্রে প্রকাশ করল চর্চাপদ— ১৯৭০ (৩৭৫.০০)। তাঁর আর এক অসামান্য আখ্যান শৈশব-এরও (১৯৮০) চর্চাপদ সংস্করণ (১৫০.০০) বেরল, বহুচর্চিত চালু জনপ্রিয় কাহিনিপাঠের বিপরীত বাঁকে পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেয় রাঘবের এ-উপন্যাস।
… Link



26 January, 2014

…Link


abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
৪ শ্রাবণ ১৪২০ শনিবার ২০ জুলাই ২০১৩

তাঁর পথে আমরা চলতে পারিনি
শান্তনু চক্রবর্তী
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র, রবীন মজুমদার। চর্চাপদ, ২০০.০০
বিজ্ঞান চর্চার লক্ষ্য, আদল, ঢঙ, প্রকরণ, যান্ত্রিক উপযোগ, সব কিছুই আমরা পশ্চিমি দুনিয়া থেকে ধার করেছি। এ সবের ক্ষেত্রে নতুন দিশা বা সংকেতনির্দেশে আমরা প্রধানত ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার বেদনা শুধু বশ্যতা স্বীকারে ও অনুকরণে বাধ্য থাকার জন্য নয়, এর ভিত্তি আরও গভীরে। ‘প্রকৃতির নিয়ম’-এর বিশ্বজনীনতা মেনে নিলেও, অনুসন্ধানের ক্ষেত্র, ঝোঁক, ধরন, প্রকরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে বৈচিত্রের সুযোগ থাকে। একই পৃথিবী। কিন্তু মাটি, পাথর, জল, বায়ু, প্রাণী, উদ্ভিদ দেশে-দেশে, প্রদেশে-প্রদেশে, এমনকি জেলায়-জেলায় আলাদা। আমাদের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে জানার, বোঝার চেষ্টায় আমরা কতদূর সফল? বিজ্ঞান গবেষকের সংখ্যায় আমরা বহু দেশের থেকে এগিয়ে। কিন্তু প্রকৃতি, পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র অনুযায়ী শিল্প, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান-গবেষণাকে গড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কতটা উদ্যোগী? উত্তর অজানা নয়।
কিন্তু আমাদের দেশে সে চেষ্টা যে একেবারে হয়নি তা নয়। আর যিনি আজীবন বিজ্ঞানকে স্বদেশমুখী ও দেশোপযোগী করে তোলার চেষ্টা করেছেন, তিনি প্রফুল্লচন্দ্র রায়।
রবীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র, রামেন্দ্রসুন্দর ও হরপ্রসাদের জাতীয়তাবাদের অন্তরে ছিল দেশের ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ, মাটি, জল, বায়ু ও প্রাণজগৎকে তাদের নিজেদের মতো করে জানার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী জ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র সৌধ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। এ শুধু পশ্চিম থেকে ধার করা জ্ঞানার্জনের হাতিয়ার ব্যবহার করে দেশকে জানা নয়, এই প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসা ও জানার উপকরণকে বিষয়োপযোগী, দেশোপযোগী করে তোলা। এই অনুপ্রেরণা প্রফুল্লচন্দ্রেরও। তাই, শুধু রসায়নের গবেষণায় আটকে না থেকে দেশের কিমিয়াবিদ্যার ইতিহাস জানার বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। তাতে এল বিজ্ঞানের বিকাশ ও অধোগতির প্রথম যথার্থ সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, যা নতুন করে ফিরে আসে কয়েক দশক পরে, ইয়োরোপীয় বিজ্ঞান-ঐতিহাসিকদের রচনায়। দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় দেখিয়েছেন, প্রফুল্লচন্দ্রের রচনাতেই এই জাতীয় ব্যাখ্যার সূত্রপাত। কিন্তু এই অবদান আজও তার প্রাপ্য স্বীকৃতি পায়নি।
প্রফুল্লচন্দ্রের সার্ধশতবর্ষের উদযাপন ঘটা করে হল। কিন্তু এ-সব আলোচনা প্রধানত বাদ থেকে গেল। এই ফাঁক অনেকটাই ভরাট করেছে রবীন মজুমদারের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র গ্রন্থটি। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানের বৌদ্ধিক ও সামাজিক ভূমিকার চরিত্র অনুধাবনের নিরিখে তিনি প্রফুল্লচন্দ্রের উত্তরাধিকারকে বুঝতে চেয়েছেন। এই তাগিদ থেকে তাঁর পাঁচটি প্রবন্ধ আগেই প্রকাশিত। তার সঙ্গে আরও তিনটি যুক্ত করে তৈরি হয়েছে বইটির আটটি ‘তরঙ্গ’। যেমন, ‘প্রফুল্লচন্দ্র ও পরিবেশ’, ‘সবুজ ও স্থিতিশীল রসায়ন শিল্পের অগ্রদূত’, ‘প্রফুল্লচন্দ্র কি বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন’ এবং ‘প্রফুল্লচন্দ্রের বিজ্ঞানবোধ’।
pcroy
কলকাতায় বিজ্ঞান কলেজে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে
বিদেশি অভ্যাগতদের সঙ্গে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৯৩৮)।
গবেষণাগারে ছাত্রদের প্রতি প্রফুল্লচন্দ্রের কঠোর নির্দেশ ছিল জল ও বিকারক নষ্ট না করার। নির্দেশ ছিল পারদ, প্ল্যাটিনাম, সোনা, রুপো মেঝেতে পড়ে গেলে যথাসম্ভব পুনরুদ্ধার করে পুনর্ব্যবহার করার। এর পেছনে প্রধান কারণ বোধহয় ছিল অর্থের অপ্রতুলতা। কিন্তু রাসায়নিকের অপচয় রোধ এবং সেগুলিকে পরিবেশে মুক্তি পেতে না-দেওয়া, আজকের সবুজ রসায়নের অন্যতম প্রধান বুনিয়াদ। যদিও প্রফুল্লচন্দ্র ‘সাস্টেনেবল’ (রবীনবাবুর পরিভাষায় ‘স্থিতিশীল’) উন্নয়নের কথা শোনেননি, তাঁর তৈরি বেঙ্গল কেমিক্যাল ‘স্থানীয় কাঁচামাল, বর্জ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা, ভূমিপুত্রদের সাহায্যে, তাদের উদ্ভাবনীশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে অবিচল থেকেছে…’। অন্তত, প্রফুল্লচন্দ্র যতদিন তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ততদিন। দেশের প্রয়োজন দেশীয় উপাদান দিয়ে মেটাতে চেয়েছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র, তাই তাঁর কাজে আজকের উন্নয়নের পথনির্দেশও মেলে।
রসায়নবিদ হিসেবে প্রফুল্লচন্দ্রের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। তিনি গবেষণাগারে মার্কিউরাস নাইট্রাইট সত্যিই প্রস্তুত করতে পেরেছিলেন কি-না, এই নিয়ে সম্প্রতি সংশয় দেখা দিয়েছিল। ‘প্রফুল্লচন্দ্র বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই’ অনিমেষ চক্রবর্তী ও তাঁর সহকর্মীরা মার্কিউরাস নাইট্রাইটের হলুদ রঙের কেলাসাকার পদার্থ দ্রবণ থেকে পৃথক করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু প্রফুল্লচন্দ্রের কীর্তিকে শুধুমাত্র রাসায়নিক সাফল্যের নিরিখে বিচার করলে ভুল হবে। তাঁর বৈজ্ঞানিক জিজ্ঞাসা বিজ্ঞান গবেষণার সংকীর্ণ সাবেকি গতে আবদ্ধ থাকেনি। দেশবাসীর কল্যাণসাধনের প্রেরণা ও অদম্য অনুসন্ধিৎসা তাঁকে ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক কুফল বুঝতে আগ্রহী করেছে, দেশীয় বিজ্ঞানের অবক্ষয়ের কারণগুলি খুঁজতে উৎসাহিত করেছে, প্রথম রাসায়নিক গবেষণাতেই ভোজ্য তেলে ভেজাল শনাক্তকরণে ব্যগ্র করেছে, আধুনিক রাসায়নিক শিল্পোদ্যোগ গড়ে তোলার পথসন্ধানের সাহস জুগিয়েছে। প্রফুল্লচন্দ্র ও তাঁর ছাত্ররা বাংলায় অলংকার প্রস্তুতিতে সোনার অপচয় প্রসঙ্গে যে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন, তার একটি বিস্তারিত ও প্রাঞ্জল বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। তাতে জানা যায়, কী যত্নের সঙ্গে প্রফুল্লচন্দ্ররা দেশীয় কারিগরদের পদ্ধতিগুলির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, প্রথাগত কারিগরি জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক রাসায়নিক জ্ঞানের সংযোগ ঘটিয়ে অপচিত সোনার একটা বড় অংশের পুনরুদ্ধার সম্ভব। এ প্রসঙ্গে রবীনবাবু অপচিত সোনার সঙ্গে দূষণের প্রশ্নটিও যুক্ত করেছেন। লিখেছেন, ‘আজও কলকাতার বিশেষ বিশেষ জন-অধ্যুষিত এলাকায় (যেমন শাঁখারিপাড়ায়) বিশাল বিশাল অট্টালিকার খুপরি খুপরি ঘরে প্রফুল্লচন্দ্র বর্ণিত পদ্ধতিতেই কাজ চলছে।… ক্লোরিন অ্যাসিড বাষ্প নাইট্রোজেন অক্সাইডের ধোঁয়ার মানবশরীরে ধ্বংসলীলা অব্যাহত অপ্রতিহত আজও। প্রফুল্লচন্দ্রের দেওয়া সূত্র অনুসরণে আমরা স্বর্ণালঙ্কারশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে পারতাম। একটি স্বর্ণশিল্পগ্রাম বা ওই জাতীয় ক্লাস্টারে সবার জন্য ল্যাবরেটরি এবং দূষণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারতাম।… কিন্তু আমরা পারিনি। আমাদের বিজ্ঞানমনস্কতা তো প্রফুল্লচন্দ্রের বিজ্ঞানবোধের মতো নয়।’ শেষ খোঁচাটির কিছুটা তাৎপর্য বোঝা কঠিন নয়। বাকিটুকু অনুধাবন ও উপভোগের জন্য বইটি পড়তে হবে।
বানান-বিভ্রাট প্রায় নেই। তবে, বিভিন্ন সময়ে লেখা প্রবন্ধ সংকলিত হওয়ায় কিছু পুনরাবৃত্তি রয়েছে। একটি জায়গায় আলোচনা একটু অস্পষ্ট। যেমন, বিজ্ঞানীর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বা মূল্যবোধ এবং তার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করার ক্ষেত্রে। কেউ নিজের আর্থিক উন্নতি প্রভৃতির তোয়াক্কা না করে নিজের বৈজ্ঞানিক মেধা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করবেন কি-না, বা পরিবেশের প্রশ্নটিকে কেউ শুধু মানব প্রজাতির কল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করবেন কি-না, সে সব সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত, দার্শনিক, কিংবা নৈতিক। সেগুলিতে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রশ্ন অবান্তর। রবীনবাবু হয়তো এই কথাই বলতে চেয়েছেন। কিন্তু আলোচনা খুব স্পষ্ট হয়নি।
সুখপাঠ্য বইটি শেখায়, ভাবায়। প্রফুল্লচন্দ্রের উত্তরাধিকার, ভারতীয় জ্ঞান চর্চার ইতিহাস ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদী মনোজগতের আলোচনার ক্ষেত্রে এটি মূল্যবান সংযোজন। আর তা শুধু বাংলায় প্রকাশিত বইয়ের নিরিখে নয়। বাঁধাই, কাগজ, প্রচ্ছদ, সব দিক থেকেই বইটি দৃষ্টিনন্দন।  …Link

abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
১৭ চৈত্র ১৪১৯ রবিবার ৩১ মার্চ ২০১৩

antareepচর্চাপদ থেকে বেরিয়েছে অরূপরতন বসুর অন্তরীপ ও অন্যান্য (সম্পা: অর্ণব সাহা, ১৭০.০০)। ‘ভিন্ন অভিমুখ থেকেই গদ্যসাহিত্যের এক সম্পূর্ণ পৃথক ঘরানার দিকে যাত্রা করেন অরূপরতন। হাতে-গোনা কয়েকটি উপন্যাস ও ছোটোগল্প, ছড়ানো-ছেটানো কিছু প্রবন্ধ জাতীয় রচনা ও অন্যান্য রচনায় ছড়িয়ে থাকে সেই অভিযাত্রার চিহ্ন। তেমনই কয়েকটি লেখার সংকলন এই বই।’ সম্পাদকের অভিমত। স্থির পরিণতির দিকে এগোয় এমন আদি-মধ্য-অন্তের গদ্যকে নিত্য ভেঙে ফেলতেন অরূপরতন, তাঁর গদ্যের ভাঙচুর বিষয়ের অন্তর্লীনকে টেনে বের করে আনে, বাস্তবতার গহন থেকে আনে অন্য কোনও মায়া-বাস্তব। যেমন তাঁর ‘প্রথম নৈঃশব্দ্য’: ‘চারিদিকে বই-এর গাদা, ছাপার কালি আর পুরোনো ভিজেকাঠের গন্ধ। ট্রামের শব্দ। বাইরে গ্রীষ্মের মেঘ, জানালা দিয়ে দেখা যায়, দিগন্তের কাছে মোটা কালো একটি পেন্সিলের রেখার মতো সোজা চলে গেছে। ল্যাম্পপোস্টের মাথায় কাক ও চড়ুই খড়কুটো জড়ো করেছে, তার ভিতর আলো ও অন্ধকারের একটি বুনুনি একবার জ্বলে উঠে ফের নিভে যায়।’

পূর্ণিমার জ্যোৎস্নার অপচ্ছায়া নিয়ে আমাদের পরিবারের মধ্যে তর্কের প্রচলন ছিল। এমন বাক্য দিয়ে শুরু হয় পীযূষ ভট্টাচার্যের ‘জ্যোৎস্নার অপচ্ছায়া’ গল্পটি। সূচনাতেই চেনা যায় তাঁর কলম চালু গদ্যে কথা বলে না। তাঁর সাম্প্রতিক গল্পগ্রন্থ, কৃষ্ণবর্ণ ষাঁড়ের পিঠে-র (চর্চাপদ, ১৮০.০০) পিছনের প্রচ্ছদে জানানো হয়েছে ‘তাঁর গল্পের তল একইরকম ভূমিতে অবস্থিত নয়। ভীষণ এবড়োখেবড়ো, আবার শ্যাওলা পিছল, কোথাও-বা কবিতার মতো।’ নাম-গল্পটির প্রথম বাক্যটিই তো কবিতার মতো: ‘এতদিন ধরে ঘটনাটিকে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে পেঁচিয়ে রেখেছিল একই প্রজাতির এক প্রকারের লতানো গাছ যেভাবে কোনো পরিত্যক্ত স্মৃতিসৌধকে ঘিরে রাখে।’ …Link


abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
২ চৈত্র ১৪১৯ শনিবার ১৬ মার্চ ২০১৩

নিরন্তর আত্ম-আবিষ্কারে সচেষ্ট
রবীন মণ্ডল
গণেশ পাইন/ ছবিতে কথায়, অঞ্জন সেন।
চর্চাপদ, ২৫০.০০

ganesh_pyneগণেশ পাইন সম্পর্কে লিখতে বসে অঞ্জন সেনের গণেশ পাইন, ছবিতে কথায় বইটি হাতে এল। বইটিতে নানা প্রসঙ্গে শিল্পী শিল্পচেতনায় মিথ এবং লোককথার মধ্যে তাঁর নানা ভাবনার কথা বলেছেন। এখানে অঞ্জন সেন নানা ভাবে শিল্পী গণেশ পাইনকে বিশ্লেষণ করতে চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর শিল্প-মানসিকতাকে গভীর ভাবে অনুধাবন করেছেন। কারণ শিল্পীর সঙ্গে অঞ্জন সেনের খুব অন্তরঙ্গ যোগাযোগ ছিল। ফলে শিল্পীকে জানার পক্ষে বইটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বইটির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আমি নিজের চিন্তাকে কিছুটা প্রশ্রয় দিয়ে ফেলেছি। গণেশের কাজের মধ্যে যে আত্মজৈবনিকতার স্ফুরণ তা এক দার্শনিক আধারে ধৃত। নান্দনিকতাকে তিনি যে ভাবে ধরেছেন, যে ভাবে গভীর মননশীলতার মধ্যে তাঁর নিজস্ব একটা পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছেন তা হয়তো তাঁর বিষাদাচ্ছন্ন মনের প্রকাশ। তাঁর কাজে চিত্রগত রীতি-প্রকরণ খুবই আত্মগত এবং সংযত।
নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দীর্ঘকাল নিজেকে আবিষ্কার করতে তিনি বেশ সচেতন ছিলেন। তাঁর কাজ তাৎক্ষণিকতার ফসল নয়, তা গভীর মনন এবং গবেষণাজাত। বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নানা ভাবে রেখা এবং বর্ণের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটাতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে যে নীরবতার আবরণ তা আমাদের ভাবিত করে, আপ্লুত করে।
চিত্রগত বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কিউবিজম এবং আরও কিছু পাশ্চাত্য রীতি-ভাবনা তাঁর মধ্যে কাজ করলেও এ দেশীয় নানা শিল্পরীতি সম্বন্ধেও তিনি যে বেশ সচেতন ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। তাঁর শিল্পশিক্ষার প্রথম দিকে বেঙ্গল স্কুলের যেমন প্রভাব পাওয়া যায় তেমনই বিভিন্ন পর্যায়ে গভীর আত্মসমীক্ষার মধ্যে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করতে প্রয়াসী ছিলেন। নিজের কথায় তিনি যে সব বিষয়ে কিছু বলেন বা শিল্পকলা সম্বন্ধে যখন তাঁর ধ্যানধারণার কথা বলেন তখন তাঁর মধ্যে এক গভীর মগ্নতা থাকে। গণেশের কাজের মধ্যে এক বিপন্নতাবোধ কাজ করে, যার রহস্য ভেদ করলে আলোর সরণিতে উত্তরণ ঘটে দর্শকদের।
অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর কাজের মধ্যে এক বৈষ্ণবীয় ভাবনার ইঙ্গিত আছে। বলা যায় তা এত আত্মগত যে মানুষ গণেশের জীবনাচরণের মধ্যে তা অধরা নয়। আমরা সাধারণত জীবনাচরণে বাইরের যে সংকটাপন্নতা দেখি বা বোধ করি, তা প্রকাশ করি আমাদের নিজস্ব বিপন্নতা ঘিরে। ফলে অধিকাংশ শিল্পী যাঁরা প্রায় আমাদের সমকালীন তাঁদের কাজে রাগ, ক্ষোভ, আনন্দ, বেদনা খুব অস্পষ্ট থাকে না যা সরাসরি দর্শকচিত্তে সহজেই ধরা দেয়। এখানে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এক ধরনের তাৎক্ষণিকতা কাজ করে যা মনের গভীরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু তাঁর সমসময়ে যে সব ঘটনা এবং দেশজ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা তাঁর শিল্পচেতনায় এক গভীর আত্মমগ্নতাকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে। তাঁর এই গভীর বিষণ্ণ বেদনাবোধ দর্শকমনে গভীর ভাবে কাজ করে। তাঁর চিত্রময়তায় উদ্দাম উচ্ছ্বাস অনুভূত হয় না। গণেশ সমকালকে নিজস্ব বোধ দিয়ে আবিষ্কারে সচেষ্ট ছিলেন।
এক পরিশীলিত মনের অধিকারী ছিলেন গণেশ যা তাঁকে বাইরের দিক থেকে কোনও উচ্ছ্বাসে নিমগ্ন হতে দিত না। তাঁর মননে আদিমতা এবং লৌকিক পরিমণ্ডলের ছাপ অস্পষ্ট নয়। তাঁর কাজে যে আলো-আঁধারের খেলা চলে তা বর্ণাশ্রিত হলেও রেখার গতিপ্রকৃতিকে তিনি এমন ভাবে বিন্যস্ত করেছেন যা আমাদের আকর্ষণ করে। তাঁর মননের দীপ্তিময়তা বিষণ্ণতাকে ছাপিয়ে অন্য এক মগ্নতায় আক্রান্ত করে, আমাদের উজ্জীবিত করে সৃষ্টির আলোকে।
গণেশের শিল্পমানসে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের ভাবনাচিন্তার উপস্থিতি অপ্রত্যক্ষ নয় যা জানা প্রয়োজন এ কারণে যে তাঁর মানসগঠনে যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, যেখানে শুধু যে কিছু ভারতীয় তথা বিদেশি ধ্যানধারণা তাঁর শিল্পলোককে প্রভাবিত করেছে এমন নয়, বেশ কিছু লৌকিক এবং উপকথার আত্মিক সম্পর্ক স্পষ্ট বোঝা যায়। তাঁর কাজের মধ্যে যে ছায়াপাতই ঘটুক না কেন, আসলে নিজস্ব নিঃসঙ্গ এক দার্শনিকের ভাবনায় উদ্ভাসিত তাঁর শিল্পসম্ভার।
অনেকের কাছে শুনেছি তাঁর আদি বাড়ির পরিবেশের মধ্যে যে প্রাচীনতা, স্তব্ধতা, আধা-আচ্ছন্নতা এবং পারিবারিক জীবনচেতনা তা সামগ্রিক ভাবে বাল্যকাল থেকেই তাঁর মানসিকতাকে অন্য এক ভাবনায় গড়ে তুলেছিল। অন্ধকারের মধ্যেই আলোর সন্ধান করতে হয়েছে তাঁকে। এই সন্ধান-রহস্যের মধ্যে অন্য এক দার্শনিকতা দেখতে পাই।
একটা সময়ে ওঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে আমার বেশ যোগাযোগ ছিল। দেখেছি ব্যক্তিমানুষ গণেশ কখনওই সরব ছিলেন না, মৃদুভাষী, তৎসত্ত্বেও বক্তব্যে সরাসরি নিজের জানা কথা স্পষ্ট ভাবে বলতে অভ্যস্ত ছিলেন।
যে ভাবেই দেখি না কেন, তাঁর শিল্পকলার গঠনে, মননে যে পারিপাট্য তা সময়ের নিরিখে কথা বলে। শুধু দৈর্ঘ্যপ্রস্থের স্বল্পপরিসরে তাঁর বিষয়ভাবনাকে আবদ্ধ রাখেননি। সময়কে তিনি বিশেষ মান্যতা দিয়ে, বোধ দিয়ে বিচারবিশ্লেষণ করেছেন। বর্ণলেপন এবং রেখার মায়াজালের খেলায় তিনি নিরন্তর নিজেকে আবিষ্কারে সচেতন, সচেষ্ট ছিলেন। …Link


abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
২৬ মাঘ ১৪১৯ শনিবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

বাংলার প্রাচীনতম ক্রাইম-কাহিনি সম্ভবত দারোগা বাঁকাউল্লার কীর্তিকলাপ। ১৯০৫-এর পর সুকুমার সেনের সম্পাদনায় ১৯৮৩-তে প্রকাশিত হয় বাঁকাউল্লারদপ্তর। সে পাঠই আদ্যন্ত মান্য করে প্রকাশিত হয়েছে বাঁকাউল্লার দপ্তর সটীক সংস্করণ (সম্পা. প্রসেনজিত্ দাশগুপ্ত, সৌম্যেন পাল, চর্চাপদ, ১৮০.০০)। …Link


abp

 

 

কলকাতার কড়চা
৭ মাঘ ১৪১৯ সোমবার ২১ জানুয়ারি ২০১৩

সার্ধশতবর্ষে এখনও বিস্মৃত উপেন্দ্রকিশোর

বলেন কী মশাই? এই জানুয়ারীর শীতে দার্জিলিং? এখন তো বেলা বারোটায় বরফ পড়বে সেখানে! দার্জিলিঙের সীজন সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর।” বছর ষাটেক আগে বাঙালির দার্জিলিংকে শীতে উপেক্ষিতা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন নিরঞ্জন মজুমদার ওরফে রঞ্জন। তাঁর দার্জিলিং-যাত্রায় সহযাত্রী ওই প্রশ্নটি করেছিলেন। কিন্তু সিজন হোক চাই না হোক, দার্জিলিং বাঙালির ভ্রমণে দেড়শো বছরেরও বেশি জড়িয়ে আছে। আর সেই জড়িয়ে থাকার বহু নিদর্শন আজও ছড়িয়ে আছে পত্রিকার পাতায়। সখা, সাথী, সন্দেশ ও মুকুল পত্রিকায় নিজের দার্জিলিং ভ্রমণের বিবরণ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। তাঁর জন্মের এই সার্ধশতবর্ষেও টুনটুনির বই, গুপী গাইন বাঘা বাইন-এর বাইরের সে সন্দেশ ক’জন জানেন সন্দেহ। এ কলকাতা জানে গড়পার রোডের ইউ রায় অ্যান্ড সন্স বাংলা ছাপার জগতে কী আলো এনেছিল। তবে সে আজ শুধু এলিট চর্চার বিষয়। কোনও যথার্থ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র, যার মধ্যে থাকবে তাঁর সমস্ত লেখা, আঁকা সব ছবি, তোলা সব আলোকচিত্র তাঁর মৃত্যুর শতবর্ষ ছুঁতে চললেও এখনও অধরা।

darjeeling

 

 

 

 

কিঞ্চিৎ আশার আলো, বইমেলায় ‘চর্চাপদ’ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর দার্জিলিং, প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত ও সৌম্যেন পাল সম্পাদিত সটীক সচিত্র সংস্করণে। সযত্ন-প্রকাশনায় দার্জিলিং ও তিব্বত নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের লেখাগুলি তাঁর তোলা ও আঁকা ছবি-সমেত সংকলিত। টীকায় প্রায় প্রতিটি প্রসঙ্গের বিবরণ আছে। পাহাড়, মেঘ, ঝর্না, সূর্যের আলো মিলিয়ে নামলিপি এঁকেছেন সৌজন্য চক্রবর্তী। কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয়ের মতো সেই গদ্যে দার্জিলিং আরও এক বার চোখের সামনে: ‘পর্বতের কোলে মেঘের নিদ্রা দেখিতে বড়ই সুন্দর। চঞ্চল মেঘ সমস্ত দিন ধরিয়া ছুটাছুটি করে। তাই কি সন্ধ্যাকালে তাহার ঘুম পায়? ওই দ্যাখো, তাহারা কেমন শান্ত হইয়া পর্ব্বতের গায়ে শুইয়া পড়িয়াছে। সমস্ত রাত্রি তাহারা ওইরূপ ভাবে কাটায়। সকালবেলা সূর্যের আলো তাহাদের গায়ে পড়িবামাত্র তাহাদের ঘুম ভাঙিয়া যায়।’ ১০ মে ১৮৬৩ উপেন্দ্রকিশোরের জন্ম। বিবিধ বর্ষ পালনের হুজুগে বাঙালির ঘুম কিন্তু এখনও ভাঙল না। … Link

 


abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
২৩ ভাদ্র ১৪১৯ শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২

madhabi

 

 

 

 

‘সততা থাকলে, প্রতিভা থাকলে, অভিনয় ক্ষমতা থাকলে, গলিতে প্রবেশের কোনও প্রয়োজনই হয় না। মাথা উঁচু করে রাজপথ দিয়ে হাঁটা যায় এবং সফল হওয়া যায়। যেমন হয়েছেন, কানন দেবী। যেমন হয়েছি, আমি।’— মাধবী মুখোপাধ্যায়ের আশ্চর্য আত্মকথন মাধবীকানন (সম্পা: সুপর্ণা ভট্টাচার্য। চর্চাপদ, ৩৫০.০০)। তাঁর অভিনয়-জীবনে সান্নিধ্যে আসা মানুষজনেরও উন্মোচন। শুরুতে মৃণাল সেন ‘মাধবীর জন্য দু-চার কথা’য় তাঁর ‘বাইশে শ্রাবণ’ ছবিতে মাধবীর অভিনয়ের সূত্রে লিখেছেন ‘‘ঋত্বিক এবং তার পরেই সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে মাধবী দুর্দান্ত অভিনয় করল। আমার প্রযোজক যেমন নাম রেখেছিল মাধবী, বিদেশে কেউ কেউ নামকরণ করেন ‘চারুলতা’।” … Link

 

 


abp

 

 

পুস্তক পরিচয়
৯ আষাঢ় ১৪১৯ শনিবার ২৩ জুন ২০১২

আন্দোলনের আর্কাইভ হয়ে রইল
সৌরীন ভট্টাচার্য
অন্য অর্থ, সম্পাদনা: শুভেন্দু দাশগুপ্ত, রাঘবেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রবীর ভট্টাচার্য, প্রণবকান্তি বসু। চর্চাপদ, ১০০০.০০
anya_arthaআমি গোড়া থেকেই পত্রিকা ‘অন্য অর্থ’ আর সংকলন ‘অন্য অর্থ’ একটু আলাদা করে নেব। সংকলনের মধ্যে এই আলাদা করার চিন্তা খুব আছে বলে মনে হল না। আমি আলাদা করছি এই কারণে যে, এ দুটো জিনিস এক নয়। ১৯৭৩-এ পত্রিকাটি যখন বেরোয়, তখন সেটা যে-অর্থে যতটুকু হোক, যে-ঘটনা বা যা-ঘটনা ছিল, আজ বই বেরোবার সময় তা কিন্তু আর নেই। সময় বদলে গেছে, মনমেজাজ বদলে গেছে। এ কথাটা মেনে নিতে অসুবিধা হলেও মেনে নিতে হয়। পত্রিকায় যাঁরা জড়িয়ে ছিলেন বা এই সংকলন তৈরিতে যাঁরা জড়িয়ে আছেন, তাঁদের এ কথাটা হয়তো খুব ভাল লাগবে না। কিন্তু এ সব কথার জন্য মন তৈরি রাখতে হয়।
‘অন্য অর্থ’ পত্রিকা যখন বেরোয়, তখন অর্থনীতির ছাত্র-শিক্ষক মহলে নিঃসন্দেহে খানিকটা সাড়া পড়েছিল। তবে সেই সাড়া পড়ার চেহারাটাও আজ এক বার ফিরে দেখা উচিত। অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের নানা শাখার ছাত্রছাত্রীরা পত্রিকায় আগ্রহী ছিলেন। আর কিছু তরুণমনস্ক শিক্ষকও। কয়েকজনের নাম তো সংকলনের ভূমিকাতেই উল্লেখ করা আছে। এর বাইরেও কিছু মানুষ ছিলেন, যাঁরা এই পত্রিকার তত্ত্বগত ও মনোগত অবস্থান নিয়ে উৎসাহী ছিলেন। উৎসাহের কারণটা আজ সংকলন প্রকাশের দিনে খেয়াল করা দরকার। আমি অর্থনীতি চর্চার বিদ্যায়তনিক চেহারার দিক থেকে কথাটা স্মরণ করার চেষ্টা করছি। পেশাগত ভাবে যাঁরা তখন অর্থনীতির শিক্ষকতায় জড়িয়ে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকের ছিল এক ধরনের অসন্তোষ, অস্বস্তি ও অভাববোধ। এই অভাববোধের ইঙ্গিত এই সংকলনের পাঠকও টের পাবেন। কিন্তু যেটুকু অস্বস্তি ও অভাবের কথা এখানে বলা হচ্ছে, ব্যাপারটা ছিল বোধহয় তার থেকে আরও কিছু বেশি। অন্যান্য সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই বেশিটুকু কতটা প্রকট ছিল আমি ঠিক বলতে পারব না। কেননা, সেই বেশির অভাব তাঁদের বিদ্যাক্ষেত্রে অনুমান করি কিছু কম ছিল। সংকলনে যে-অভাববোধের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা জড়িয়ে ছিলেন বোধহয় সেটুকুতেই।
কথাটা একটু খুলে বলা যাক। তখনকার পত্রিকা প্রকাশের গরজের কথা বলতে গিয়ে মূলত যে-কথাটা উঠে আসছে, তা হল, প্রচলিত অর্থনীতি চর্চায় যা পাওয়া যেত, তা দিয়ে আমাদের চেনাজানা ধরাছোঁয়ায় বিশেষ সুবিধা হত না। এই প্রসঙ্গে প্রতিতুলনায় কাজ করছে মার্কসীয় অর্থনীতি। অন্যান্য সমাজবিজ্ঞানী সম্ভবত আকর্ষণ বোধ করেছিলেন এই জায়গাটাতে। ১৯৭৩-এর দুনিয়ায় কলকাতায় তা খুবই স্বাভাবিক ছিল। আমাদের বিদ্যায়তনিক মনে একান্ত ভাবে বাজার-নির্ভর অর্থনীতি চর্চার বেগ ছিল অপ্রতিরোধ্য, আজও তা অপ্রতিহত। মার্কস-চিন্তার হাত ধরে সেই বাজারের আবরণ ভেদ করার যে-দায় ও গরজ, তা ক্লাসঘরে ছিল নিতান্ত অপ্রত্যাশিত। সেই দায় মাথায় নিয়ে কিছু তরুণ যে এ ধরনের একটা কাজে হাত দিলেন, সেটা মনে হয়েছিল খুব জরুরি। একটু ছড়ানো অর্থে যে-অভাববোধের কথা বলছিলাম, তার সবটা কিন্তু এতে মিটবে না। এই অন্য অর্থ আন্দোলনের গোড়া থেকেই আমাদের কারও কারও মনে হচ্ছিল এর চিন্তাপরিধির একটা ঘের বাঁধা আছে। সেটা এমনিতে খুব অস্বাভাবিক কিছু না। সব পরিধিতেই কিছু ঘের থাকে। কিন্তু এখানে মার্কস-কেন্দ্রিক চিন্তাপরিধিকে যে জায়গায় বসিয়ে অর্থনীতির চর্চার সূত্রপাত করা হচ্ছে, তাতে মনে হয়েছিল, জীবনপরিধির এমন অনেক কিছু বাদ যাবে, যে আবার এক ধরনের ভিতরের শূন্যতায় আমরা জড়িয়ে যাব। ষষ্ঠ সংকলনে এসে বিপদটা খানিকটা প্রকাশ্যেই দেখা গেল। ঘোষণা করা হল: ‘‘‘অন্য অর্থ’-এ লেখা পছন্দ হবার শর্ত তিনটি। প্রথমত, মার্কসীয় দর্শনের বিরোধী কোনও লেখা ছাপানো হবে না, দ্বিতীয়ত, লেখার বিষয়বস্তু সামাজিক অর্থনীতির আওতার মধ্যে পড়বে।’’ তৃতীয় শর্তের উল্লেখ এখানে দরকার নেই বলে করলাম না। আমাদের এখানে মার্কসীয় মনের যে-ঘের প্রধানত রাজনৈতিক সংযোগে গড়ে উঠেছে, তাতে সমাজ সংস্কৃতি ও আমাদের মনোজগতের এমন অনেক কিছু বাদ যায় যে তাতে জীবনবৃত্তের বড় একটা অংশ হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। কাজেই সেই ঘেরের সামাজিক অর্থনীতির আওতা থেকেও অনেক কিছু বাদ যাবে।
অর্থনীতিতে গণিতের প্রয়োগ প্রসঙ্গে এখানে যে-সমালোচনার দৃষ্টি গ্রহণ করা হয়েছিল, তা ছিল যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক। জেভন্স প্রমুখ অর্থনীতিবিদের যে-প্রেরণায় এখানে গাণিতিক মডেলের বিকাশ হল, তা এল খানিকটা যান্ত্রিক ভাবে। ওই বিমূর্ত চর্চায় সমাজ-সংস্কৃতির বেশ খানিকটা এক ধাক্কায় আমাদের হাতের বাইরে চলে গেল। প্রথমটা আমরা বুঝিনি যে আমাদের অর্থনীতি শাস্ত্র নীরক্ত হতে বসেছে। ‘অন্য অর্থ’ তা নিখুঁত শনাক্ত করেছিল। এ বাহাদুরি তাঁদের অবশ্য প্রাপ্য। মডেল বানাতে হচ্ছে বলে যে এ ব্যাপারটা ঘটছে, তা তো নয়। তত্ত্ব বানাতে গেলে মডেলের আশ্রয় নিতে হতেই পারে। কিন্তু মডেল বানাবার সময় কোন কোন জিনিস হিসেবে নিচ্ছি আর কোন কোন জিনিস নিচ্ছি না, সে কথাটা জরুরি। কোন জিনিস হিসেবে নেব তা নির্ভর করবে কী আমি জানতে চাই তার ওপর। কাজেই, ঘুরেফিরে প্রশ্নটা এসে দাঁড়াচ্ছে সমস্যাপট বিষয়ে আমার ভাবনা বা অবস্থান কী, তাই নিয়ে। সাম্যাবস্থা-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক তত্ত্বে যা আমি জানতে চাই, তা আমার সমাজজীবন যাপনের দিক থেকে বড়ই সংকীর্ণ। ফলে মন ওঠে না। কিন্তু মার্কসীয় ধারার যে-অর্থনীতির জন্য অন্য অর্থ আন্দোলন ঘের টেনে দিয়েছিল, সে সমস্যাপটেও বা কতটা ধরানো যায়। আমাদের জীবন যে বস্তুত আরও অনেক আঁকাবাঁকা পথে চলে।
এই জায়গায় এসে পড়লে রাজনীতির আরও অনেক কথা এসে পড়ে। অন্য অর্থ আন্দোলন গত শতাব্দীর সত্তর দশকের যে-সময়ের কথা তখন দেওয়ালে দেওয়ালে, সে দশক তখন মুক্তির দশক, চিনের চেয়ারম্যান তখন আমাদের চেয়ারম্যান। যে জীবনবৃত্তে রাজনীতির এ সব কথা তখন উঠেছিল, সেই বৃত্তের অনেক কিছুই কিন্তু তখনই এই রাজনীতির ঘেরের বাইরে চলে যাচ্ছিল। সে কথা হিসেবের মধ্যে ধরতে পারা তখন খুব সহজ কাজ ছিল না। কারণ, ওই রাজনীতির পরম্পরায় সে কথা ঠিক কোনও দিন ঠাঁই পায়নি। মার্কসীয় চিন্তা অভূতপূর্ব ভাবে পঞ্চাশ/ষাট বছরের মধ্যে নানা দেশে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সেই দেশের সংস্কৃতি ও পরম্পরার সঙ্গে সেই চিন্তার মোকাবিলার গল্পটা মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না। এমনকী মার্কসের রচনারও যতটুকুতে আমাদের হাত দেওয়া সম্ভব, তার মধ্যেও সমাজ রূপান্তরের যে-গল্প উঁকি দেয়, তাও মোটেই সোজাসাপ্টা নয়। আমরা বিপ্লবের ব্যস্ততায় সে দিকে ঠিক মন দিতে পারিনি। আসলে আমাদের বিশ্বজোড়া রাজনীতির যে ঘের তত দিনে রীতিমতো তৈরি ছিল, তার বাইরে বেরোতে গেলে অনেক সংস্কারে ঘা লাগার আশঙ্কা। সে সব পেরিয়ে শক্ত পায়ে দাঁড়াবার জন্য কোনও জমির সন্ধান আমাদের রাজনীতির আঙ্গিকে ধরা পড়েনি। বিকল্প অর্থনীতির তত্ত্বভাবনা রাজনীতি ভাবনার এক মুদ্রা তো বটে। তাই অন্য কোনও পরিসর রাজনীতিতে দেখা না দিলে তা আমাদের অর্থনীতি ভাবনায় দেখা দেবে, এ প্রত্যাশা একটু অলীক।
সমর্থ বাংলা ভাষায় অর্থনীতি রচনার দিক থেকে ‘অন্য অর্থ’ একটা জরুরি কাজে হাত দিয়েছিল। সে চেষ্টায় তাঁদের সাফল্যও খেয়াল করার মতো। ওই সময়ে আরও কিছু পত্র-পত্রিকা এই ধরনের কাজ দরকারি মনে করেছিলেন। রাজনৈতিক প্রেরণা নিশ্চয় এর পিছনে একটা বড় কারণ ছিল। যে জীবনবৃত্ত নিয়ে আমাদের কথাবার্তা, সে জীবনের কাজের জন্য সে মানুষদের ভাষাটা তো অন্তত ছুঁয়ে থাকতে হবে।
বর্তমান সংকলন একটি আন্দোলনের আর্কাইভ হয়ে রইল আমাদের হাতে। …Link


ব্লগ – বুক রিভিউ

আইন যখন তামাশা
অরিন্দম দাশগুপ্ত(অনুবাদক);
মিয়াজান দারোগার একরারনামা ; প্রকাশক (কলকাতা :চর্চাপদ);
পৃষ্ঠাসংখ্যা 152(পরিশিষ্টসহ)

সে এক সময়, ইংরেজ তখনও ভারতবর্ষের শাসনভার নিজের হাতে সম্পূর্ণ তুলে নেয় নি, খাতায়কলমে মুঘলসম্রাট বাহাদুর শাহ্ জাফর তখনও দিল্লীর মসনদে , সিপাহী বিদ্রোহের তখনও সতেরো আঠেরো বছর দেরী আছে৷ “আইনের শাসন’ নিতান্তই কাগজে কলমে অবস্থিত, বাস্তবে খুব একটা দেখা যায় না; সে এক সময় যখন আস্তে আস্তে নীলকররা জাঁকিয়ে বসছে, জমিদাররা লুঠতরাজকে মোটামুটি ধর্ম বলেই মনে করেন৷ সে এক সময় যখন সতীদাহ প্রথা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও টুকটাক এদিকওদিক সতী হওয়ার গল্প শোনা যায়; রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তখনও তৈরি করে উঠতে পারে নি ইংরেজরা৷ সেই সময়ের নানান কাহিনী, সত্য ও কাল্পনিক দুই-ই আমরা পড়েছি৷ পড়েছি আইন ও বিচারবিভাগ এব ংপুলিশি হালচাল নিয়েও কিছু বইপś৷ অনেকের ম্তে, বিশেষত: ঔপনিবেশিক কালে, ‘দারোগাসাহিত্য’ কে সাহিত্যের একটা উপবিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়৷

দারোগাসাহিত্যের যে নমুনাটি সম্প্রতি হাতে এলো তাকে নিয়েই এই আলোচনা৷ বইটির নাম মিয়াজান দারোগার একরারনামা ৷ বইটি আঅতপরিচয় লেখকের বয়ানে ইংরাজিতে প্রথম প্রকাশিত হয় 1869 সালে৷ ঘটনাকাল আরও তিরিশ বছর আগের, অর্থাত্ কিনা 1839 এর আশেপাশে৷ বইটি 2009 এর জুনমাসে শ্রী অরিন্দম দাশগুপ্তর অনুবাদে “চর্চাপদ’ প্রকাশনী থেকে বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে৷

অশিক্ষিত মিয়াজান সম্পূর্ণ নিস্পৃহভাবে বর্ণনা দিয়ে গেছেন তাঁর দারোগাপদ প্রাপ্তি ও স্বল্পকালীন দারোগগিরি, দারোগাপদ লোপ ও পদচ্যুত হওয়ার প্রতিশোধ গ্রহণের গল্প৷ শুরুতেই অকুন্ঠচিত্তে তিনি জানান যে তাঁর বোন হলেন কালেক্টার সাহেবের রক্ষিতা৷ তাই ‘জামাইবাবু’র সুপারিশে মাś বিশবছর বয়সে অশিক্ষিত মিয়াজান হয়ে যান পুলিশের দারোগা৷ তাই বলে ভাববেন না যেন মুরুব্বির সুপারিশই দারোগার চাকরির একমাś শর্ত৷ না তা নয়, মিয়াজান আরও জানান যে কালেক্টারের সুপারিশপśরে সাথেই ম্যাজিস্ট্রেটের খাসবেয়ারা গোপালের সাথেও রফা করতে হয়৷ মিয়াজানের দস্তখত্ করা রসিদে মিয়াজানের মাসমাইনেটি প্রতিমাসে তুলবেন ম্যাজিস্ট্রেটের খাসবেয়ারা৷ এছাড়াও তিনি আরও একশো টাকাও পান৷ পাঠক অবাক হয়ে ভাবতে পারেন তাহলে মিয়াজানের সংসার চলবে কি করে, যদি মাসমাইনে সর্বদা গোপালই পান! উত্তর খুব সহজ, দারোগার রোজগার অন্যś, বিভিন্ন মামলার বাদী কিম্বা বিবাদী অথবা দুজনের কাছ থেকেই ঘুষ নেওয়া, কোনও জমিদার অথবা প্রভাবশালী লোকের নির্দিষ্ট কোন স্বার্থসিদ্ধির উźশ্যে কাউকে কোনও অভিযোগে গ্রেপ্তার করানো/ মামলায় ফাঁসানো ও তজ্জনিত ঘুষ ইত্যাদিই দারোগার মুল আয়৷ আর ম্যাজিস্ট্রেটের খাসবেয়ারাও কিছু বিনাকারণে দারোগার মাসমাইনে নিয়ে নিচ্ছেন না, এতদ্বারা তিনি দারোগাকে বিভিন্ন বিপদোপদে রক্ষাও করে থাকেন৷ যথা, দারোগার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও মামলা যদি ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে যায়, খাসবেয়ারা সেটা ডিস্মিস্ করিয়ে দেন৷ সেইসময় “ঘুষ’ অথবা “রিশবত্’ যে কি পরম ক্ষমতাধর ও সর্বব্যাপী চালিকাশক্তি ছিল তার প্রমাণ আছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়৷ মিয়াজানের ভাষ্যে আমরা জানতে পারি বিচারক থেকে শুরু করে আমলা, মোক্তার, বেয়ারা, সর্বোছ থেকে সর্বনিম্ন পদের পুলিশকর্মচারি , সকলেই ঘুষখোর৷ মজার ব্যপার হল 1869 সালে এই বইটি প্রকাশিত হলে সমসাময়িক ক্যালকাটা রিভিউ বা হিন্দু পেট্রিয়টের আলোচকগণও ব্যপারটা প্রায় মেনেই নিয়েছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, ঘটনাগুলির কিছু সত্যতা থাকলেও ঘটনাকাল আরও তিরিশ বছর আগের৷ তাঁদের দাবি, এই তিরিশবছরে নাকি, ইংরেজের সুশাসনে অবস্থার আসমান জমিন ফারাক হয়ে গেছে! সত্যিই হয়েছিল কিনা, সে অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন৷

বইটির আর একটি জিনিস নজর টানার মত, তা হল পুলিশহাজতে অত্যাচারের বিবরণ৷ মিয়াজান নির্বিকারভাবে বিভিন্ন অত্যাচারপদ্ধতি বর্ণনা করে গেছেন, যা তাঁরা ব্যবহার করতেন সাক্ষীদের কবুল করানোর জন্য৷ মাś একটি এখানে উল্লেখ করছি৷ বাংলাদেশে ঘুরঘুরে পোকা নামে একরকম পোকা আছে, যাদের মুখের দুপাশে চোয়ালের ধারালো অংশ দাঁড়ার মত বেরিয়ে থাকে৷ এই পোকাকে দিনেরবেলা বের করলে এরা নিমেষের মধ্যে পাথুরে জমিতেও ধারালো দাঁড়ার সাহায্যে অত্যন্ত গভীর গর্ত খুঁড়ে ফেলে৷ বেয়াড়া সাক্ষী কিম্বা অপরাধীকে শায়েস্তা করতে তার হাত পিছমোড়া করে বেঁধে চিত্ করে শুইয়ে গায়ের বস্ত্র সরিয়ে নাভির ওপর একটা ঘুরঘুরে পোকা রেখে আধখানা শুকনো নারকোল মালা দিয়ে চাপা দিয়ে দেওয়া হত৷ ঘুরঘুরে পোকা তত্ক্ষণাত্ মাটির বদলে নাভিতে গর্ত খুঁড়তে শুরু করত৷ অত্যাচারের বীভত্সতা যে তাঁকে আদৌ স্পর্শ করে নি, তা দেখে অবাক হতে হয়৷ অত্যাচারের সাফাই হিসাবে মিয়াজান যে সব যুক্তিতর্কের অবতারণা করেন তার প্রতিধ্বনি তো আজও পুলিস হেফাজতে থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগের সাফাই হিসাবে শুনতে পাই৷ অবশ্য মিলগ্রাম এক্সপেরিমেন্টের কথা মনে রাখলে সেটা খুব অস্বাভাবিকও নয়৷

বইটিতে আরও আছে বিবিধপ্রকার জালিয়াতির বিবরণ৷ বইটির সমস্ত ঘটনাই হয়ত সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা নয়৷ তবে মোটের ওপরে এরকম ঘটনা সেসময় খুব দূর্লভও নয়, বর ংপুলিশ-প্রশাসন-সমাজের এক বিশ্বস্ত ছবি, তত্কালীন সময়ের এক চমত্কার কিস্সা বলা যায়৷ যাঁরা ś²আইম থিল্রার পড়তে ভালবাসেন, তাঁরাও বতি হবেন না৷ হার্ডবাউন্ড বইটির প্রচ্ছদ চমত্কার, ভাল মানের কাগজের ব্যবহার চোখকে আরাম দেয়৷ পরিশিষ্টে হিন্দু পেট্রিয়ট ও ক্যালকাটা রিভিউতে প্রকাশিত রিভিউ দুটির অন্তর্ভুক্তি উল্লেখযোগ্য৷ …Link


ক্লিক ফর বই
প্রবন্ধ সমগ্র, ভূদেব মুখোপাধ্যায়।
চর্চাপদ, ১০০০.০০ –
আলোচনায় অলোক রায়

হিন্দু কলেজের ছাত্র মধুসূদন দত্ত, রাজনারায়ণ বসু ও ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উনিশ শতকের ত্রিমূর্তি বললে ভুল হয় না। তিন জনের মধ্যে গভীর ভাবভালবাসা ছিল। কিন্তু মধুসূদন বাল্যজীবন থেকে ‘বিজাতীয় প্রণালির কিছু অধিক পক্ষপাতী’ ছিলেন, পরে ধর্মান্তর গ্রহণের পর তাঁকে বলতে শোনা যায় ‘আই ডোন্ট কেয়ার আ পিন্‌স হেড ফর হিন্দুইজ্‌ম।’ ব্রাহ্ম রাজনারায়ণ ‘হিন্দুধর্মের শ্রেষ্ঠতা’ প্রতিপাদনে সচেষ্ট হলেও তিনি হিন্দুধর্মের একাংশ মাত্র গ্রহণ করেছেন, তাই বঙ্কিমচন্দ্রের মনে হয়েছে ‘উপধর্ম হইতে বিচ্ছিন্ন পরিশুদ্ধ ব্রহ্মোপাসনা কোন কালে ভারতবর্ষে বা ভারতবর্ষের কোন প্রদেশে বা আধুনিক ব্রাহ্ম ভিন্ন কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত ছিল কি না, সন্দেহ।’ ভূদেব এ দিক থেকে যথার্থ হিন্দু, তাঁর মতে ‘সনাতনধর্মের মাহাত্ম্যের জন্যই হিন্দু উহাকে ধরিয়া রহিয়াছেন এবং স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ, পরধর্মো ভয়াবহঃ কথাটি হিন্দু শুধু মুখে বলেন নাই, সহস্র নির্যাতনের মধ্যে সহস্র সহস্র বৎসর কাজেও করিয়া আসিতেছেন।’ উনিশ শতকের শেষ পাদে ইংরেজি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার সত্ত্বেও উজান স্রোতের টানে হিন্দুধর্ম-ধর্মানুষ্ঠান-সমাজানুশাসন জাতীয় ভাব তথা জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারাকে জনপ্রিয় করে তোলে। ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ (১৮৮২) পড়ে বঙ্কিমচন্দ্রের উচ্ছ্বাস প্রত্যাশিত, তবে বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবার-সমাজ ভাবনার সঙ্গে ভূদেবের মতৈক্য ঘটেছিল বলে মনে হয় না। অন্য দিকে, ভূদেব পরিবার ও সমাজ সম্বন্ধে যা-কিছু বলতে চেয়েছিলেন, সব কিছু বইতে লিখে উঠতে পারেননি। ফলে, ভূদেবের বইগুলি পরে তাঁর ছেলেরা পরিবর্ধিত আকারে প্রকাশ করেন।
মনে হতে পারে, এই ধরনের বই প্রকাশের পক্ষে সময়টা (১৮৮২-১৮৯৫) অনুকূল ছিল, কিন্তু ভূদেবের প্রবন্ধ মন দিয়ে পড়লে বোঝা যায়, সে কালের হিন্দুয়ানির মূঢ় উন্মত্ত ভাবোচ্ছ্বাসের সঙ্গে তাঁর যুক্তিঋদ্ধ মননশীল রচনার আসলে কোনও যোগ নেই। শশধর তর্কচূড়ামণি, চন্দ্রনাথ বসু, কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন, অক্ষয়চন্দ্র সরকার থেকে ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, যোগেন্দ্রচন্দ্র বসু, পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত অনেকেই হিন্দুধর্মের পুনরুজ্জীবনে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু ভূদেবের মনীষা, পাণ্ডিত্য ও প্রগাঢ় বিশ্বাস তাঁদের ছিল না। তারপর বিশ শতকে বাঙালি সমাজে যখন বড় রকমের পরিবর্তন ঘটল, তখন থেকে ভূদেব ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেলেন। প্রমথনাথ বিশীর যে জন্য মনে হয়েছে ‘তিনি কোথায় আর আমরা কোথায় আছি। তাঁহাকে বিস্মৃত না হওয়াটাই যে বিস্ময়কর।’

বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের রচনাসম্ভার নামে একটি সংকলন প্রমথনাথ বিশীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়, যার ভূমিকাটি মূল্যবান, কিন্তু সেখানে ‘সম্পাদনা’র কোনও সুযোগ ছিল না। তা ছাড়া ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ ও ‘আচার প্রবন্ধ’ বই দু’টির ‘নির্বাচিত’ অংশ সেখানে নেওয়া হয়েছিল। মনস্বিতা সান্যাল ও রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সযত্ন সুষ্ঠু সম্পাদনায় সম্ভবত এই প্রথম ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমগ্র প্রকাশিত হল। এতে ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’, ‘সামাজিক প্রবন্ধ’ ও ‘আচার প্রবন্ধ’ ছাড়া ‘বিবিধ প্রবন্ধ’ও (দুই খণ্ড) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ‘গ্রন্থপরিচয়’ এবং ‘প্রাসঙ্গিক তথ্য’ হিসেবে সংযোজিত টীকা রচনায় সম্পাদকদের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার পরিচয় মেলে। প্রদীপ বসুর ‘ভূমিকা’ উনিশ শতকে বাঙালির সমাজভাবনা তথা সমাজবিজ্ঞান সম্বন্ধে পরিচয় লাভের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। ভূদেবের প্রবন্ধে অধ্যাপক বসু জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার সন্ধান করেছেন। ইংরেজ-অধিকৃত ভারতে কী ভাবে জাতীয় ভাবের উদ্বোধন, সংরক্ষণ ও প্রসার করা যায়, কী ভাবে ইংরেজ-অধিকারের মধ্যে থেকেও দেশবাসী জাতীয় আদর্শের অনুগামী হতে পারে, তার বিবরণ মিলবে ‘সামাজিক প্রবন্ধ’-য়। প্রদীপ বসু দেখিয়েছেন, ‘ভূদেব এই হিন্দু-আদর্শকে এক যুক্তির কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন, এ হিন্দুত্ব যেন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাবিধানে পরীক্ষিত; এ রকমই এক হিন্দুত্বের আদর্শ পাঠকের কাছে প্রস্তুত করতে চেয়েছেন। তাঁর অন্য দু’টি গ্রন্থ ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ ও ‘আচার প্রবন্ধ’ হিন্দুসমাজের জন্য রচিত, তফাত হল ‘সামাজিক প্রবন্ধে’ তিনি হিন্দু সমাজের বহির্মহলের কথা বলেছেন, এবং অন্য দু’টি গ্রন্থে তিনি হিন্দু সমাজের অন্দরমহলের কথা বলেছেন। এখানে তিনি প্রাচীন শাস্ত্রের মর্ম বাঙালি হিন্দু গৃহস্থের যে ভাবে বোঝা উচিত ও পালন করা উচিত, সেটা ব্যাখ্যা করেছেন।’ সমাজতন্ত্রের আলোচনায় ভূদেবের রচনার ঐতিহাসিক মূল্য আছে, কিন্তু বাইরে থেকে তাকে যত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাবিধানে পরীক্ষিত, ঐতিহাসিক অনুসন্ধানে বিশ্লেষিত, প্রখর যুক্তির আলোকে বিচারিত মনে হয়, আসলে তা নয়। অধ্যাপক বসুকে তাই কিছুটা নির্মম ভাবে বলতে হয়েছে, ‘আসলে তিনি ছিলেন রক্ষণশীল, ব্রাহ্মণ্যবাদী, আর্যধর্মের পৃষ্ঠপোষক, আর্যধর্মের গৌরব ঘোষণা ও তার আদর্শ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নই ছিল তাঁর সব চিন্তার মূল।’ কিন্তু এখানেও সরলীকরণের প্রয়াস আছে।

ভূদেব তাঁর রচনায়, বিশেষত ‘সামাজিক প্রবন্ধ’-য় আদর্শ হিন্দুসমাজের বর্ণনা করেছেন। এই আদর্শ এক ‘স্বপ্নলব্ধ ভারতবর্ষ’কে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে, কিছুটা হিন্দু-ভারতবর্ষের চিত্র, কিন্তু অনেকখানি তাঁর কল্পনার সামগ্রী। ভূদেবের ‘তুলনামূলক সমাজতত্ত্ব’-র সাহায্যে ইতিহাস লেখার প্রয়াসকে প্রদীপ বসু যে জন্য ‘কাল্পনিক ইতিহাস’ বলেছেন। আসলে, অতীত ভূদেবের কাছে স্বপ্নলব্ধ হলেও জীবন্ত, ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে তিনি আশাবাদী; শুধু বর্তমানকে নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা। এই ‘বর্তমান’ পাশ্চাত্য ভাবধারায় দীক্ষিত, আত্মবিস্মৃত, অধঃপতিত। তা সত্ত্বেও বর্তমানকে তো অস্বীকার করার উপায় নেই, এবং ভূদেব অন্তত সেই আদর্শ রক্ষায় সপরিবারে চেষ্টা করেছেন। ‘সামাজিক প্রবন্ধ’ বইয়ের উৎসর্গপত্রে দুই ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘তোমরা দুই ভ্রাতা ইংরাজী বিদ্যায় শিক্ষিত হইয়াও যে প্রকার গুরুজনের প্রতি ভক্তিমান ও পরিজনের প্রতি প্রীতিমান, সেইরূপ আর্যশাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাসম্পন্ন এবং জনগণের প্রতি অনুরাগবিশিষ্ট। তোমাদের ন্যায় ইংরাজি শিক্ষিত এতদ্দেশীয় প্রৌঢ় এবং যুবকদিগকে মানসচক্ষে রাখিয়া সমাজতত্ত্ব বিষয়ে স্বচিন্তার উদ্রেক করিবার অভিলাষে এই প্রবন্ধগুলি লিখিয়াছি।’

উনিশ শতকে ‘সমাজতত্ত্ব নিয়ে স্বচিন্তা’র দরকার ছিল। যা হারিয়ে গেছে বা হারিয়ে যাচ্ছে, তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার মধ্যে এক ধরনের জাতীয়তাবোধের প্রকাশ ঘটেছে। ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ লেখার সময়ে ভূদেবের মনে হয়েছে, ‘আমাদিগের পারিবারিক ব্যবস্থা আমার চক্ষে ভাল লাগিয়াছে। যেজন্য এবং যেরূপে ভালো লাগিয়াছে, তাহা প্রকাশ করিতে প্রবৃত্ত হইলাম।’ ‘আচার প্রবন্ধ’-এ তিনি দেখিয়েছেন, ‘দেশীয় পরম পবিত্র সদাচার পালন ইহ এবং পারলৌকিক হিতসাধন পক্ষে কীরূপ কার্যকরী’ এবং ‘বিদেশীয় শিক্ষার প্রাবল্যে এবং সজ্ঞান ও সভক্তিক শাস্ত্রশিক্ষার ত্রুটিতে’ তা কী ভাবে লুপ্ত হচ্ছে। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ইংরেজি শিক্ষার প্রভাবে ও ইংরেজ শাসনের ওপর নির্ভরতায় বাঙালি সমাজে এক ধরনের আত্মবিস্মৃতি ঘটে। ভূদেব-রচনাসমগ্রে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের সমর্থন, বিধবাবিবাহের বিরোধিতা, জাতিভেদ-বর্ণভেদের প্রয়োজনব্যাখ্যা, সাম্য ধারণার অসম্ভবতা প্রদর্শন আপাতদৃষ্টিতে তাঁর পিছুটানের পরিচয় দেয়। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর ভারতচিন্তা ও রাজনীতি ভাবনার মধ্যে এক ধরনের দূরদর্শিতা লক্ষ করা যায়। রবীন্দ্রনাথকে ঠিক ভূদেবপন্থী বলা যায় না, তবে ‘মুখুজ্জে বনাম বাঁড়ুজ্জে’ (১৮৯৮) প্রবন্ধের সংযোজনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘জনসভা ও জনসভাপতিদের মধ্যে ভূদেববাবু যে সকল দুর্লক্ষণ লক্ষ করিয়াছেন [যথা, সুসজ্জিত পট্টাবাস, চেয়ার, পেন্টালুন, ইংরেজি ভাষা ব্যবহার] তাহাও আমাদের ভাবিবার কথা। আমরা মাছ ধরিতে চাই, কিন্তু জলের সহিত সংস্রব রাখিতে চাই না; আমরা দেশের হিত করিব, কিন্তু দেশকে আমরা স্পর্শ করিব না।’ ‘কংগ্রেসওয়ালাদের’ সম্বন্ধে দেখা যাচ্ছে ভূদেব ও রবীন্দ্রনাথের মত একই ছিল।

ভূদেবের প্রবন্ধ সংগ্রহ বইটির ছাপা, বাঁধাই, প্রচ্ছদ খুব ভাল হয়েছে। ‘প্রকাশকের কথা’ আসলে ‘সম্পাদকের কথা’। ’ খুব সত্য কথা। ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ বইটি ভূদেবের জীবিতকালে তিন বার ছাপা হয় (১৮৮২, ১৮৮৫,১৮৮৯)। ‘গ্রন্থপরিচয়’ অংশ থেকে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না, সংস্করণভেদে পরিবর্তনের স্বরূপ। অবশ্য এমন সংগ্রহে পত্রিকার পাঠ ও সব সংস্করণের পাঠের তুলনামূলক বিচার সম্ভব নয়। এত বিশাল বইতে কিছু ছাপার ভুল অপরিহার্য, যেমন ‘আচার প্রবন্ধ’-এর উৎসর্গপত্রে ‘অনন্তনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর বদলে অনন্তদেব মুখোপাধ্যায়। সংস্কৃত উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন ঘটেছে মনে হয়। …Link


 

 

Sunday , July 6 , 2008

Bookshop with a view

In the quaint Radhanath Mullick Lane, off College Street and just a few bends away from Putiram, a bookshop has just been born. Formally, it is called Charchapad — also the name of its imprint. But informally and generically, it prefers to be called a “boi-thek” (den of books).

The day the boi-thek opened its door to lovers of Bengali books, July 2, it earned itself the epithet of “little Barnes and Noble” from a Bengali gentleman living abroad. “We can’t, however, take back books after readers have read them over a fortnight or so,” says Charchapad’s editor, writer Raghab Bandyopadhyay, underlining the huge differences in funds and resources from the giant American bookstore chain.

Not to be deterred by its modest means, the den has decided to be choosy about the kind of books it keeps — “not the bestseller novels by the likes of Sunil Gangopadhyay and Suchitra Bhattacharya, but serious books by authors who respect and care for the Bengali language”. Won’t that grievously limit Charchapad’s clientele? Bandyopadhyay admits that it might, but at the same time, sounds hopeful about the rise of a generation of Bengalis who are eager to rediscover writers like Bhudeb Mukhopadhyay, Ritendranath Tagore and Jagadish Gupta. And this is exactly where Charchapad is trying to step in, by bringing back in print writers who had long gone out of it.

This is not to say that Charchapad is averse to new writers. In fact, it plans to provide a platform for all genres of ‘good’ new writing (including translation), except poetry (that’s a hornet’s nest, says Bandyopadhyay). Starting off with Unnayan Bitarka and Shoteek Jadunagar, Charchapad also wants to bring to the fore the talented but unheralded writers who do not enjoy the backing of big publishers.

In deciding what to publish, or keep on his shelves, Bandyopadhyay is relying a great deal on readers who, he hopes, will come bearing suggestions for books not yet done in Bengali publishing history. Charchapad may not be able to pay its writers like kings, but it is determined to break away from the unprofessionalism of Bengali publishing and give all its writers, big or small, a uniform 10 per cent royalty and a statement of accounts.

For readers and browsers, there are a few other attractions — Kamalkumar Majumdar’s paintings on the boi-thek’s walls, and the promise of Kalika’s mutton chops and tea every other evening.  …Link



Tagore tribute

Historian Ranajit Guha, 87, who lives in Austria, visited Calcutta recently for a brief two weeks, which saw the launch of two of his books. One was Chhoy Ritur Gaan, a book on Tagore’s poetry from Guha, an influential voice in subaltern studies, who received this year’s Ananda Puraskar for Kabir Naam O Sarbanaam, which is on Tagore’s poetry too.

Guha the historian always had a deep regard for literature. In both the books on poetry, he closely examines the idea of self. Chhoy Ritur Gaan is about Tagore’s songs, though Guha looks at them as poetry, to delve into the philosophies of self and other, and nature and time. It is an interpretation of Tagore’s ideas that also traces Guha’s thoughts as if they were handwritten notes on the margins of the volume he is reading.

At the launch of Chhoy Ritur Gaan (price Rs 150; 131pages) at publisher Charchapad’s small, neat office off Surya Sen Street recently, Guha was surrounded by friends and admirers: poet Sankha Ghosh, to whom the book is dedicated, Baromas magazine editor Ashoke Sen, historian Rudrangshu Mukherjee and writer and publisher of the book Raghab Bandyopadhyay. And theory— of self, of the other or of the poetic consciousness — was cast aside in favour of an adda and some excellent food for thought in the shape of Puntiram-er radhaballabhi, followed by Nokur-er mishti. …Link